রুপাঞ্জল সবজী new rupkothar golpo 2020

 হাই বন্ধুরা আজ এই পোস্টটিতে আমি আপনাদের সাথে একটি বাংলা রূপকথার গল্প ( Bangla Rupkothar Golpo ) শেয়ার করেছি এই পোস্টটি অবশ্য বাচ্চাদের জন্য। অনেক মা বাবাই তার বাচ্চাদের জন্য রূপকথার গল্প ( Bangla Rupkothar Golpo ) খুঁজে থাকে তাই তাদের জন্যই এই পোষ্টটি। আপনি যদি রূপকথার গল্প পড়তে না চান তাহলে আপনাদের জন্য আমাদের এই ওয়েবসাইটে আরো গল্প রয়েছ যে গুলির লিংক নিচে দেও হলো আপনারা ওই লিংক গুলিতে ক্লিক করে আপনার পছন্দের গল্পটি পড়তে পারেন। 
গল্পের নাম :– রুপাঞ্জল ফল
গল্পের লেখক :– ( COLLECTED FROM INTERNET ) 
ALSO READ : 
ALSO READ : 
Bangla Rupkothar Golpo নিচে দেওয়া হলো
অনেক দিন আগে, এক স্বামী আর স্ত্রী বাস করতেন। ওনাদের বাড়িটা ছিল ঠিক একটা বাগানের সামনে যেটা ফল আর সব্জিতে ভরা থাকত। একদিন, স্ত্রী দেখতে পেলেন বাগানে রুপাঞ্জল নামে একটা সব্জি বড় হচ্ছে, যা খুবই সুস্বাদু। শুনছো, ঐ দেখো! সামনের বাগানে কত বড় বড় রুপাঞ্জল ফুটে আছে। কি সুন্দর দেখাচ্ছে। আমাকে কয়েকটা এনে দেবে! স্বামী সেই কথা শুনে ভয় পেলেন। কারন বাগানটা ছিল একটা ডাইনীর। আসলে কি জানো, এই বাগানটা হল একটা ডাইনীর। আমার মনে হয় না ওখানে যাওয়াটা নিরাপদ হবে। ডাইনী যদি আমায় দেখে ফেলে, আমার ওপরে জাদু করবে। তারপর, একদিন স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লেন। স্বামী তাকে যা যা খেতে দিলেন, সে সবকিছুই প্রত্যাখান করল। আর শুধুই রুপাঞ্জল খেতে চাইলেন। উহ… রুপাঞ্জল। ওগুলোই আমার এখন খেতে ইচ্ছা করছে। একমাত্র ওগুলো খেলেই আমি ভাল হয়ে উঠব। স্বামীটা তার স্ত্রীকে নিয়ে খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন। সেদিন গভীর রাতে, উনি মনে সাহস জোগালেন, আর ডাইনীটার বাগানের ভিতরে ঢুকে পড়লেন। আহ… আশা করি ডাইনীটা এখানে নেই। আমি চটপট কিছু রুপাঞ্জল তুলে নিয়ে এখান থেকে পালিয়ে যাব। স্ত্রীটা রুপাঞ্জল উপভোগ করলেন এবং সেগুলো খেয়ে সুস্থ বোধ করার পর, উনি আরও খেতে চাইলেন। এই রুপাঞ্জল গুলো খেয়ে আমার খুব ভাল লাগছে। শোনো না, আমায় আরও কিছু এনে দাও না। স্বামীটা আরও রুপাঞ্জল আনতে ডাইনীটার বাগানে আবার গেলেন, কিন্তু তিনি ঘুরে দেখলেন ডাইনীটি তার পিছনেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর ডাইনীটি তাকে দেখে খুব রেগে গেছে। তুমি আমার রুপাঞ্জল গুলো চুরি করেছো। তুমি একটা চোর! আমি তোমার ওপর জাদু করব আর তোমাকে পাথর বানিয়ে দেব। স্বামী তো ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি ভয়ে কাঁপতে শুরু করলেন। আমার ভুল হয়ে গেছে, ভুল হয়ে গেছে আমার। দয়া করে আমায় শাস্তি দেবেন না। আমার স্ত্রী অসুস্থ তার অসুস্থতার জন্যই আমি রুপাঞ্জল তুলে নিয়েছি। আপনি যা টাকা চান, এর বদলে, আমি তা দিয়ে দেব। আমি তোমার থেকে টাকা চাই না। তার বদলে কি চাই, সেটা আমি তোমাকে বলছি। যখন তোমার স্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠবে আর তার হবে বাচ্চা, আমি এসে এর বদলে তোমার বাচ্চাটাকে নিয়ে যাব। আর তুমি যদি তোমার বাচ্চা আমাকে না দাও, আমি তোমাকে পাথর করে দেব। ঠিক আছে। স্বামী ডাইনীকে দেখে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল আর তাই তিনি রাজি হয়ে গেলেন। সময় পেরোল। আর স্বামী ডাইনীর ব্যাপারে সব কিছু ভুলে গেল। ওনার স্ত্রীও সুস্থ হয়ে উঠলেন। আর একদিন তিনি একটা সুন্দর শিশু কন্যার জন্ম দিলেন। শিশুর জন্মের কিছু পরেই, ডাইনীটা এসে হাজির হল। আমি বাচ্চাটাকে নিতে এসেছি। হা হা হা হা। আশা করি তোমার মনে আছে। তুমি আমায় প্রতিজ্ঞা করেছিলে, আমার রুপাঞ্জলের বিনিময়ে তুমি তোমার বাচ্চাকে আমায় দেবে। আর নইলে আমি তোমাকে পাথর বানিয়ে দেব। আমি আমার কথা রাখব। আপনি শিশুটা নিতে পারেন। ডাইনীটা শিশুটাকে নিল। আমি তোমার নাম রাখব রুপাঞ্জল। তোমার বাবা আমার বাগান থেকে যে সব্জি চুরি করেছিল, সেই নামেই। আর যখন তুমি বড় হবে, তুমি হবে আমার চাকর। ডাইনীটা রুপাঞ্জলকে টাওয়ারের ওপর ঘরের মধ্যে শুইয়ে রাখল। বছর কেটে গেল আর রুপাঞ্জল একটা সুন্দরী কিশোরী হয়ে উঠল, আর বেশ লম্বা ঘন সোনালি চুল ছিল তার। আর টাওয়ারের যেহেতু কোনও সিড়ি ছিল না, রুপাঞ্জল কখনওই পালাতে পারত না। সে ডাইনির জন্য রান্না বান্না আর পরিষ্কারের কাজ করেই দিন কাটাত। রুপাঞ্জল খুবই একা ছিল কারন তার সঙ্গে কথা বলার মত কেউ ছিল না। সে জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকত আর গান গাইত, আর ভাবত তার গান যদি কেউ শুনতে পায়। শুনছো কি, শুনছো কি? তুমি আমার বন্ধু হবে? আমার একটা বন্ধু চাই। একটা একটা একটা বন্ধু। রুপাঞ্জল, রুপাঞ্জল। তোমার চুলটা নামাও তো। আমি তোমার চুলটাকে একটা মই বা সিঁড়ির মত ব্যবহার করব। রুপাঞ্জল তার চুলটা নিচে নামিয়ে দিল। আর ডাইনী সেটা ধরে টাওয়ারে উঠল বেচারা রুপাঞ্জল! সে তার দিন গুলো শয়তান ডাইনী বুড়ির দেখাশোনা করেই কাটাত। প্রত্যেক দিন ডাইনীটা টাওয়ারে ফিরে এসে খাবার খেত এবং রুপাঞ্জলকে দিয়ে সব কাজ করাত। একদিন এক দয়ালু এবং সুদর্শন রাজপুত্র টাওয়ারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি রুপাঞ্জলকে জানলায় গান গাইতে দেখলেন। শুনছো কি, শুনছো কি! তুমি আমার বন্ধু হবে? আমার একটা বন্ধু চাই! একটা একটা একটা বন্ধু। রাজপুত্র সঙ্গে সঙ্গেই রুপাঞ্জলের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি তার সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন কিন্তু ডাইনীটাকে আসতে দেখে তিনি লুকিয়ে পড়লেন। আর তিনি দেখলেন ডাইনিটা কিভাবে ওপরে উঠল। রুপাঞ্জল, রুপাঞ্জল তোমার চুলটা নামাও তো! আমি তোমার চুলটাকে মই বা সিঁড়ির মত ব্যবহার করব। ডাইনি চলে যাওয়ার পর, রাজপুত্র রুপাঞ্জলকে ডাকলেন। রুপাঞ্জল, রুপাঞ্জল তোমার চুলটা নামাও। ওটা মই অথবা সিঁড়ির মত ব্যবহার করে ওপরে আসতে চাই। রুপাঞ্জল রাজপুত্রকে দেখে খুশি হল আর সেই সঙ্গে অবাকও হল। সে ওনাকে টাওয়ারে উঠতে দিল। আর সঙ্গে সঙ্গে, দুজনে খুবই ভাল বন্ধু হয়ে গেল। এক দিন, রাজপুত্র রুপাঞ্জলকে বিয়ে করার কথা বললেন। রুপাঞ্জল তুমি কি আমায় বিয়ে করবে? যদি তুমি হ্যাঁ বলো, তাহলে আমি বাড়ি ফিরে যাব আর একটা সিল্কের মই এনে তোমাকে এখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাব। হ্যাঁ, প্রিয় রাজপুত্র, নিশ্চয়ই। আর তখন রাজপুত্র একটা মই আনতে চলে গেল। আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসব, রুপাঞ্জল। আমি তোমায় এই ডাইনি আর এই জায়গা থেকে অনেক দূরে নিয়ে চলে যাব, কথা দিলাম। তাই হবে, রাজপুত্র। দয়া করে তাড়াতাড়ি ফিরে এসো। রাজপুত্র আর রুপাঞ্জল খুব খুশি ছিল। কিন্তু তারা জানত না যে ডাইনিটা তাদের ওপর লক্ষ্য রাখছিল। ওহ, রুপাঞ্জল আমায় ছেড়ে চলে যেতে চায়, আর রাজপুত্র ওকে নিতে এখানে ফিরে আসছে। আমি দুজনকেই এমন শিক্ষা দেব যে ওরা জীবনে কখনও ভুলবে না। রুপাঞ্জলকে শিক্ষা দিতে, ডাইনি রুপাঞ্জলের সুন্দর চুলটা কেটে দিল। ডাইনিটা তখন একটা জাদু করল আর রুপাঞ্জলকে দূরের একটা মরুভূমিতে পাঠিয়ে দিল। রুপাঞ্জল, আমার প্রিয়তমা, দয়া করে তোমার চুলটা নামাও যাতে আমি ওপরে উঠতে পারি। ডাইনি তখন রুপাঞ্জলের চুলটা নিচে নামিয়ে দিল। রাজপুত্র রুপাঞ্জলকে দেখতে পাবে আশা করেছিলেন। কিন্তু তিনি জানলা পর্যন্ত উঠে, ডাইনিটাকে দেখতে পেলেন। কেমন আছো? হু! নির্দয় ডাইনি তখন রাজপুত্রকে নিচে ঠেলে দিল। যাও যাও এখান থেকে। আঃ রাজপুত্র যখন নিচে গিয়ে পড়লেন, ওনার মুখটা কাঁটা ঝোপে গিয়ে পড়ল, আর তিনি অন্ধ হয়ে গেলেন। আমার চোখ! আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না। বেচারা রুপাঞ্জল মরুভুমিতে হারিয়ে গেল। তার খিদে আর পিপাসা পেয়েছিল, এবং কোথাও যাওয়ার ছিল না। আর রাজপুত্র সব জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে ভাবতে লাগলেন, রুপাঞ্জল কোথায় গেল। অনেক মাস পর, রাজপুত্র আর রুপাঞ্জল অবশেষে একই জায়গায় গিয়ে পৌছল। শুনছো কি, শুনছো কি তুমি কি আমার বন্ধু হবে? আমার একটা বন্ধু চাই একটা একটা একটা বন্ধু। রুপাঞ্জল! রুপাঞ্জল! আমার প্রিয়তমা। কোথায় তুমি? আমার প্রিয় রাজপুত্র! তোমায় দেখে আমার খুব ভাল লাগছে। রুপাঞ্জল যখন রাজপুত্রকে দেখল, সে কাঁদতে শুরু করল। আর তার চোখের জল গড়িয়ে পড়ল রাজপুত্রের চোখে ওপর, আর সাথে সাথে তার চোখ সেরে গেল। রুপাঞ্জল। আমি তোমায় দেখতে পাচ্ছি, প্রিয়তমা। রাজপুত্র আর রুপাঞ্জল, রাজপুত্রের রাজত্বে ফিরে এল এবং সেখানে বিয়ে করে সুখে বাস করতে লাগল। 

DISCLAIMER 

এই আর্টিকেল টির মধ্যে যে গল্পটি আছে সেটি শুধু মাত্র বাচ্চাদের জন্য বড়দের এই গল্পটি ভালো নাও লাগতে পারে। এই গল্পটির লেখকের নাম বা সোর্স হলো ইউটিউব অর্থাৎ আমরা ইউটিউবের একটি গল্পকে লিখিত আকারে আমাদের এই সাইটে পোস্ট করেছি, ওই ভিডিওটির লিংক আমরা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো।

Final Word for This Story

যেহেতু এটি একটি গল্প তাই আপনাদের বেশি কিছু বলার নেই আপনাদের যদি আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলার থাকে তাহলে তা আপনার কমেন্ট করে আপনাদের জানতে পারেন।
সবশেষে আপনাদের বলবো যদি আপনাদের বা আপনাদের ছেলে মেয়েদের এই Rupkothar Golpo টি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই এই আর্টিকেলটা সকলের সাথে সেয়ার করবেন। 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।