এই ব্যবসা শুরু করে প্রতি মাসে আই করুন ১ লক্ষ টাকা।

মৎস্য চাষ বা মৎস্য পালন করে আপনারাও প্রতিমাসে ১ লক্ষ অথবা তার বেশি আই করতে পারেন। এই ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাদের বাৎসরিক খরচ হবে মাত্র ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ হাজার টাকা।

আরো পড়ুন:- পেরেক তৈরির ব্যবসা কি ভাবে শুরু করবেন?

কি ভাবে এই ব্যবসা বা মাছ চাষ শুরু কোরবেন?

বর্তমান সময়ে মাছ চাষ করবার অনেকগুলি উপায় রয়েছে, কিন্তু এদের মধ্যে সবথেকে সহজ উপায়গুলি হলো বায়োফ্লক টেকনিক বা ট্যাংক ব্যবহার করে অথবা পুকুর কেটে। এর কিছু উপায় সমন্ধে বিশদে নিচে দেওয়া হলো।

কেজ সিস্টেম:-

এই টেকনিকে কোনো যদি বা সুমুদ্রে কিছুটা অংশ জাল দিয়ে ঘিরে সেখানে মাছ চাষ করা হয়। এই টেকনিকে মাছ চাষ করলে আপনাকে আলাদা করে কোনো পুকুর কাটতে হয়না। এবং এটি আপনার খরচ বাঁচায়।

ট্যাংক -এ মাছ চাষ:-

এই পদ্ধতিতে কিছু বড়ো বড়ো ট্যাংক বানিয়ে তাতে জল ভোরে তার মধ্যে মাছ চাষ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এই পদ্ধতির ব্যবহার করলে মাছেদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হয়।

পুকুর কেটে মাছ চাষ:-

গ্রাম অঞ্চলে মাছ চাষ করার ক্ষেত্রে এটি সবথেকে সহজ এবং লাভজনক পদ্ধতি।কিন্তু এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য অনেকটা খোলা জায়গার প্রয়োজন হয়। এবং এই ক্ষেত্রে দেখাশোনার জন্য একটু বেশি খরচ পড়বে।

কত টাকা লাগবে?

অন্নান্ন সকল বিষয় সম্মদ্ধে জানবার আগে আসুন জেনে নেওয়া যাক এই ব্যবসা শুরু করতে ঠিক কত টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

স্থায়ী ব্যায়:-

প্রথমবার পুকুর কাটার জন্য আপনার খরচ হতে পারে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।এবং অন্নান্ন সরঞ্জাম, মাছের কাবার, চারা এবং বিদ্যুৎ খরচ নিয়ে আপনাদের লাগতে পারে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।

বাৎসরিক ব্যায়:-

প্রতিবছর মাছের চারা এবং অন্যান্য খরচ মিলে আপনাদের লাতে পারে 25 থেকে 30 হাজার টাকা।

মাছ চাষের পদ্ধতি

মাছ পালনের বাস শুরু করবার আগে মাছ চাষের পদ্ধতি সম্মন্ধে জেনেনেওয়া খুবই জরুরি।

জলের গুনমানতা:-

মাছ চাষের ক্ষেত্রে জলের গুণমানোতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।জলের গুণমানের ওপর নির্ভর করে মাছের উৎপাদন তাই প্রতি মাসে এক বা দুই বার জল পরিষ্কার করা খুবই প্রয়োজন।তাছাড়া জলের PH লেভেল যাতে ৭ বা ৮ -এর ভেতরে থাকে সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে।

সঠিক স্থান নির্বাচন:-

মাছ চাষের ক্ষেত্রে আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শীতের সময় মাছের গ্রোথ বা বৃদ্ধির হার খুবই কমে যায়, কিন্তু গরমে মাছেদের বৃদ্ধির হার বেশি থাকে। তাই শীতের মধ্যে মাছ চাষের সমস্ত প্রক্রিয়া ছেড়ে নিয়ে গরমের শুরুতেই মাছ চাষ  শুরু করে দেওয়া খুবই লাভজনক।

সঠিক প্রজাতির মাছ নির্ধারণ:-

আপনি যেই এলাকায় বা যেই স্থানে মাছ চাষ করতে চলেছেন সেই স্থানের আবহাওয়ার হিসাবে, কোন-কোন মাছ উপযোগী সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে মাছ চাষ করতে লাগলে আপনি বেশি মাছ উৎপাদন করতে পারবেন।

রুই,কাতলা,পাবদা,চিংড়ি,মাগুর এবং তেলাপিয়া মাছের চাষ খুবই লাভজনক।এছাড়া আপনি যদি যেকোনো আবহায়ায় মাছ চাষ করতে যান তাহলে তেলাপিয়া আপনার বেস্ট চয়েস হবে।

মাছেদের খাবারের ব্যবস্থা:-

মাছ চাষের শুরুর সময় থেকে মাছেদের খাবারের ব্যবস্থা করে রাখা উচিত। কারণ আকার বৃদ্ধি হওয়ার জন্য এবং জীবিত থাকার জন্য মাছেদের উপযুক্তও খাবারের ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজনীয়।

সরকারি সাহায্য

বর্তমান সময়ে আপনা যেকোনো ব্যবসা শুরু করার জন্য কেন্দ্র সরকারে থেকে ২৫ লক্ষ অবধি লোন পেতে পারেন।তাছাড়াও মৎস চাষের জন্য আরো কিছু সরকারি সুবিধা আপনারা পেতে পারেন।তাছাড়া মৎস্য চাষিদের উৎসাহিত করতে মৎস্য চাষকে ছত্তিশগড়ে কৃষির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

মাছ চাষে আয়ের পরিমান

আপনারা প্রতি বৎসর মাছ চাষের জন্য চারা তে যে পরিমান টাকা ব্যয় করবেন তার থেকে তিন গুন্ বেশি আপনারা আই করতে পারবেন যদি আপনারা ভালো ভাবে চাষ করেন এবং আপনাদের মাছের চারা যদি না মরে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।